চিঠি দিবস: স্মৃতির আলিঙ্গনে ফিরে দেখা
লেখক: এমডি রহমত উল্লাহ
আজ চিঠি দিবস। এমন একটি দিন, যা আমাদের সেই পুরনো দিনের মধুর স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যখন চিঠি ছিল আমাদের মনের কথা, অনুভূতির আদান-প্রদানের প্রধান মাধ্যম। প্রযুক্তির আধুনিকতার এই যুগে, আমরা চিঠি লেখার ঐতিহ্য থেকে অনেকটাই সরে এসেছি। তবু, খামে মোড়ানো একখানি চিঠি আজও আমাদের হৃদয়ের গভীরে এক অন্যরকম আবেগ সৃষ্টি করে।
আমি এখনও স্পষ্ট মনে করতে পারি, আমার বাবাকে। যিনি খামে চিঠি ভরে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতেন। অফিসের কাজ হোক, কিংবা বন্ধুর সঙ্গে মনের কথা আদান-প্রদান—চিঠিই ছিল তাঁর ভরসা। বাবার সেই চিঠিগুলো যেন তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়ের সাক্ষী। প্রতিটি চিঠি যেন ছিল একটি গল্প, একটি অনুভূতি, একটি স্মৃতি। সেই চিঠিগুলোর ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকতো এক অদ্ভুত উষ্ণতা, যা শুধু এক টুকরো কাগজের নয়, বরং দুই মন আর দুই জীবনের মাঝে এক অপূর্ব সেতু।
চিঠি ছিল কেবল তথ্য বা খবরের বাহক নয়, বরং ভালোবাসা, মমতা, আশা, আর আনন্দের এক অপরূপ ভাষা। প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানো এবং চিঠি পাওয়া ছিল এক অমোঘ অপেক্ষা আর আনন্দের উপলক্ষ। ডাক পিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা বাজলে মনে হতো, যেন মনের সকল অব্যক্ত কথার উত্তর আসতে চলেছে।
তাহলে, আজ কেন আমরা ফিরে যাবো না সেই মধুর দিনে? চিঠি দিবসে আবার শুরু হোক খামে করে চিঠি দেওয়া। ডাক পিয়নের হাতে চিঠি আসুক সবার ঠিকানায়। খামের ভিতরে লুকিয়ে থাকুক আমাদের মনের যত কথা, যত স্মৃতি, যত ভালোবাসা।
চলুন, আমরা আজ একটু সময় বের করি। একটা খাম, একটা কাগজ আর একটা কলম নিই হাতে। লিখে ফেলি আমাদের মনের কথা। হয়তো অনেকদিন পর আবার সেই পুরনো দিনের মতো, কারও চিঠি পেয়ে আমাদের মন উথাল-পাথাল হয়ে উঠবে।
চিঠি দিবসের শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে। আসুন, আমরা আবার চিঠি লিখতে শুরু করি, আমাদের হৃদয়ের কথা পৌঁছে দেই প্রিয়জনের কাছে। এক টুকরো কাগজে ভর করে আসুক মধুর সময়ের স্মৃতি, আর আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনুক সেই হারানো দিনের মধুরতা।
.jpeg)
0 Comments